পড়ুন

Sunday, December 13, 2015

এন্ডোস্কপি ও অন্যান্য

অপারেশন ছাড়া মানবদেহের অভ্যন্তরের অবস্থা পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন কাজে এন্ডোস্কপি করা হয়।

অপটিক্যাল ফাইবার বা এ জাতীয় ব্যবস্থায় আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন ধর্ম ব্যবহার করে শরীরের ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এন্ডোস্কপির জন্য একটি নল রোগীর মুখে প্রবেশ করানো হয়। এ নলটিকে চিকিৎসক ইচ্ছেমত নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ক্যামেরা এবং আলোক উৎস বাইরে থাকলেও বাঁকানো পথে আলো রোগীর শরীরে প্রবেশ করে এবং ক্যামেরার মাধ্যমে সে ছবি নেয়া হয়। একটি মনিটরের মাধ্যমে চিকিৎসক এটি পর্যবেক্ষণ করেন।

খাদ্যনালী, পাকস্থলী বা ডুওডেনাম-এর অবস্থা পর্যবেক্ষণ, বায়োপসির জন্য টিস্যু সংগ্রহ, পলিপ অপসারণ ইত্যাদি উদ্দেশ্যে এন্ডোস্কপি করা হয়। এছাড়া পরিপাকতন্ত্রে আলসার আছে কিনা সেটাও বোঝা যায় এন্ডোস্কপির মাধ্যমে। অসতর্কতাবশত পাকস্থলীতে কিছু প্রবেশের পর আটকে গেলে সেটা অপসারণের জন্যও এন্ডোস্কপি করা হতে পারে।

সাধারণত বমি, পেটে ব্যথা, অন্ত্রে সমস্যা, গিলতে অসুবিধা হওয়া, অন্ত্র রক্তক্ষরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে এন্ডোস্কপি করা হয় । এসব ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ে এক্স-রে এর চেয়ে এন্ডোস্কপি বেশি কার্যকর।

প্রায় একই ধরনের আরও কয়েকটি পরীক্ষা:

ব্রঙ্কোস্কপি
শ্বাসনালী এবং ফুসফুসের অভ্যন্তরে পর্যবেক্ষণের জন্য ব্রঙ্কোস্কপি করা হয়।

কোলনস্কপি
মলাশয় এবং বৃহদান্তের রোগ নির্ণয়, বায়োপসি ইত্যাদি কাজে কোলনস্কপি করা হয়।

সিস্টোস্কপি
মূত্রথলিসহ মূত্রসংবহনতন্ত্রের বিভিন্ন অংশ পর্যবেক্ষণের জন্য সিস্টোস্কোপি করা হয়।

ল্যাপারোস্কপি
অপারেশন না করে পেটে ছোট ছিদ্র করে শল্য চিকিৎসা দেবার পদ্ধতি হচ্ছে ল্যাপারোস্কপি। এ পদ্ধতিতে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে কাজে যোগ দিতে পারেন।

প্রক্রিয়া
ল্যাপারোস্কপির ক্ষেত্রে সাধারণত পুরোপুরি অজ্ঞান করে নেয়া হয়। আর এন্ডোস্কপি এনেসথেশিয়া ছাড়াই করা হয়। তবে ব্রঙ্কোস্কপি, সিস্টোস্কপি, কোলনস্কপির ক্ষেত্রে লোকাল এনেসথেশিয়া দেয়া হতে পারে। এন্ডোস্কপিতে আধা ঘন্টার মত সময় লাগে এবং খালি পেটে পরীক্ষাটি করতে হয়। পরীক্ষার আগে অন্তত ছয় ঘন্টা কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হয়।

ছোট আঙ্গুলের মত ব্যাসের নল প্রবেশ করাতে হয়। চিকিৎসক রোগীর গলায় ব্যথার অনুভূতি কমাতে বিশেষ দ্রবণ স্প্রে করতে পারেন। এছাড়া শিরায়ও ব্যথানাশক ইনজেকশন দেয়া হতে পারে।

অল্প কিছু ক্ষেত্রে এন্ডোস্কপি করতে গিয়ে পাকস্থলী বা অন্য অঙ্গ ফুটো হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ক্ষেত্রে শল্য চিকিৎসা জরুরি হয়ে পড়ে।

তথ্য সুত্র: অনলাইন ঢাকা.কম