করোনারী এনজিওগ্রাফি
মূলত এটি হৃদযন্ত্রের একটি বিশেষ ধরনের এক্সরে। সাধারণত গ্রোয়েন এলাকার রক্তনালীর মাধ্যমে ক্যাথেটার প্রবেশ করানো হয়। ক্যাথেটারটির ব্যাস ২ থেকে ৩ মিলিমিটারের মত হয়। বাইরে থেকে সার্বক্ষণিক ভাবে একটি এক্স-রে মনিটরের মাধ্যমে ক্যাথেটারটিকে নিয়ন্ত্রণ করে ধীরে ধীরে হৃদপিন্ডের রক্তনালীর প্রবেশমুখে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সামান্য পরিমাণে বিশেষধরনের দ্রবণ প্রবেশ করানো হয়। দ্রবণটিতে আয়োডিন মিশ্রিত থাকে। এই আয়োডিন এক্স-রে শোষণ করে ফলে কোথায় রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে আর কোথায় রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে না সেটা মনিটরে এক্স-রে চিত্র দেখে সহজেই বোঝা যায়। এভাবে রক্তনালীতে কোন ব্লক আছে কিনা সেটা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া যায়।
পরীক্ষাটি সম্পন্ন করতে ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে। এরপর ক্যাথেটারটি বের করে নেয়া হয়। পরীক্ষাটি করার আগে রোগীকে স্থানীয়ভাবে অবশ করে নেয়া বা লোকাল এনেসথেশিয়া দেয়া হয়। উত্তেজনা দূর করতে শিরায় সিডিয়েটিভ জাতীয় ওষুধও দেয়া হয়।
এনজিওগ্রাফিতে কিছুটা ঝুঁকি থাকে, তবে দক্ষ হাতে কাজটি করা হলে ঝুঁকি কম এবং দূর্ঘটনার হার শতকরা একভাগেরও অনেক কম। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কোন অঘটন ঘটলে দায়ী করা যাবে না, এই মর্মে এটি মুচলেকায় সাক্ষর করতে হয়।
পরীক্ষাটিতে কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও হৃদরোগ নির্ণয়ে গুরুত্বের কারণে চিকিৎসকগণ পরীক্ষাটির ওপর জোর দেন।
এনজিওগ্রাম দেখে রোগীকে কেবল ওষুধ দিতে হবে নাকি অন্য কিছু করতে হবে সে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রয়োজনে এনজিওগ্রাম করার সময়ই বেলুন এনজিওপ্লাস্টি, স্টেনটিং ইত্যাদি ব্যবস্থা নেয়া হয়। আর এতেও সম্ভব না হলে বাইপাস সার্জারি করা হয়।
গ্রন্থনা: শিহাব উদ্দিন আহমেদ

