সিরাম ইলেকট্রোলাইট
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় সিরাম ইলেকট্রোলাইট হচ্ছে রক্তে দ্রবীভূত নির্দিষ্ট কিছু আয়ন। মানুষের শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখার ক্ষেত্রে এসব আয়নের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
গুরুত্ব
রক্তে পানির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রক্তের স্বাভাবিক ক্ষারীয় অবস্থার মাত্রা বা পিএইচ বজায় রাখা, স্নায়ুতন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখা, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখা, পেশীর কার্যক্রম বজায় রাখা ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই আয়নগুলোই স্নায়ুতন্ত্রের সংকেত পরিবহনের কাজ করে। স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম বা বেশি দুটোই শরীরের জন্য মারাত্নক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
পরীক্ষা
সাধারণত ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষার অংশ হিসেবে রক্তে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্লোরাইড এবং বাইকার্বনেটের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়।
স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তে ইলেকট্রোলাইটের মাত্রা:
- সোডিয়াম ১৩৫-১৪৫ মিলিমোল/লিটার
- পটাশিয়াম ৩.৫-৫.০ মিলিমোল/লিটার
- ক্লোরাইড ৯৮-১০৮ মিলিমোল/লিটার
- বাইকার্বনেট ২২-৩০ মিলিমোল/লিটার
ইলেকট্রোলাইটের অস্বাভাবিকতার কারণ
- কম পানি পান,
- অতিরিক্ত পানি পান,
- অতিরিক্ত ঘাম,
- ডায়রিয়া,
- বমি,
- কিডনী রোগ,
- হৃদরোগ,
- আগুনে পোড়া, ইত্যাদি।
প্রতিকার
ইলোকট্রোলাইটের অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে এবং দীর্ঘ সময় সেটা বজায় থাকলে বড় ক্ষতি হতে পারে। এজন্য চিকিৎসক খাওয়ার স্যালাইন, শিরায় স্যালাইন, পটাশিয়াম ট্যাবলেটসহ দেয়া সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নিতে পারেন।
সতর্কতা
গরমের দিনে অতিরিক্ত ঘাম হলে কিংবা ডায়রিয়া বা বমির ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি, স্যালাইন ইত্যাদি খেতে হবে। ডাবের পানি কেবল পানির অভাবই পূরণ করে না, এত যথেষ্ট পরিমাণে সোডিয়াম এবং পটাশিয়াম থাকে।
গ্রন্থনা: শিহাব উদ্দিন আহমেদ
| তথ্য সুত্র: অনলাইন ঢাকা.কম |

