পড়ুন

Showing posts with label বি সি এস. Show all posts

Thursday, December 17, 2015

সফলদের কাছ থেকে নিন ৩৫ তম বিসিএস এর টিপস



৩৫তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস)-এর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর। সাধারণ ৪৫৫, টেকনিক্যাল ও প্রফেশনাল ৪৮৪, শিক্ষা ৮২৯ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ ক্যাডারে ৩৫-এ মোট ১৮০৩ জন ক্যাডার নিয়োগ দেয়া হবে এবার। আবেদনের শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর। এর মধ্যে অনেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বিসিএসের জন্য। আপনার প্রস্তুতি সহায়ক হতে পারে এমন দুজনের পরামর্শ তুলে ধরা হলোঃ1_99233
বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিন
ফারহানা জাহান উপমাঃ ৩১তম বিসিএস পরীক্ষায় (প্রশাসন) প্রথম
 ৩৫তম বিসিএস নতুন সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সিলেবাসটা আমাদের সময়ের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসের সংক্ষিপ্ত ভার্সন বলা যেতে পারে। এদিক থেকে পরীক্ষার্থীদের জন্য ভালো হয়েছে। কেননা প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য আর আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হবে না। লিখিত পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করলেই প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি হয়ে যাবে। প্রস্তুতি নিতে চাইলে ব্রড আকারে পড়াশোনা করতে হবে। তার মানে যে টপিকটা পড়া হবে সেটা খুঁটিনাটি, আদ্যোপান্ত পড়তে হবে।
এবারই যেহেতু প্রথম, তাই কঠিন হলে সবার জন্য কঠিন হবে। এই চাপটা নেয়ার দরকার নেই, নতুন সিলেবাস কী হবে! এবার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে নৈতিকতা, কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি। এ বিষয়গুলো আগে শুধু লিখিত পরীক্ষায় ছিল। এগুলোরও খুঁটিনাটি জানতে হবে। আর প্রতিটি বিষয় পড়তে হবে সুনির্দিষ্টভাবে। যিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিসিএসের জন্য তার আগাগোড়া জেনে নেয়া উচিত সিলেবাসে কী কী আছে এবং কোন কোন বিষয়ে তার দুর্বলতা আছে। এরপর সেই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য সে বিষয়ের ওপর নজর দিন। এক এক করে প্রতিটি বিষয় শেষ করুন।
এবার আসা যাক বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিতে। বাংলার ক্ষেত্রে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর ওপর নজর দিতে হবে। বাংলা সাহিত্যের ওপর অনেক লেখকের বই আছে সেগুলো পড়া যেতে পারে। বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির জন্য পত্রিকা পড়া জরুরি। অনেকেই মনে করেন, ইংরেজি পত্রিকা পড়া ভালো, আমার মনে হয় এটা জরুরি নয়। বাংলা পত্রিকা পড়া যেতে পারে। উপসম্পাদকীয়গুলো পড়লে অনেক তথ্য জানা যায়, সমসাময়িক সময়ের ঘটনার বিবরণও জানা যায়। এগুলো কাজে লাগে। অঙ্কের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া খুব সহজ। অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর গণিত বইগুলো ফলো করা যেতে পারে। একটা অসুবিধা অনেকের হয়_ অঙ্ক করতে সময় বেশি লাগে। এর পেছনে কারণ হলো অঙ্কের চর্চা না করা। যদি নিয়মিত চর্চা করা যায় তাহলে সময় বেঁচে যাবে।
বাংলাদেশ বিষয়াবলির মধ্যে সংবিধানের ওপর নজর দিতে হবে যদি বিগত বছরে প্রশ্নপত্রে সংবিধানের ওপর প্রশ্ন কম হয়ে থাকে।
এবার ভাইভার কথায় আসা যাক। ভাইভার জন্য সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো আত্মবিশ্বাস। আপনি কোনো প্রশ্নের উত্তর নাও জানতে পারেন, এটা দোষের কিছু নয়। সেটাও স্বাভাবিকভাবে বলুন। একটা বিষয় মাথায় রাখা দরকার, যেদিন পরীক্ষা সেদিন সকালে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় মূল খবর কী, শিরোনাম কী হয়েছে এগুলো একটু মাখায় রাখতে হবে। ভাইভা বোর্ডে সব সময় মুখে একটু স্মিত হাসি থাকা ভালো। একইসঙ্গে দুজন শিক্ষক প্রশ্ন করলে একটি একটি করে উত্তর দিতে হবে। প্রয়োজনে আরেকজনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে উত্তর দিন। যারা ভাইভা বোর্ডে থাকেন তারা কিন্তু এ বিষয়টি লক্ষ্য করেন আপনি কতটা কনফিডেন্টলি সিচুয়েশনটা হ্যান্ডেল করছেন। আর কিছু প্রশ্নের উত্তর ইংরেজিতে দিতে হতে পারে। এ জন্য আগে থেকেই বন্ধুর সঙ্গে অল্প সময়ের জন্য ইংরেজিতে কথা বলার চর্চা করুন কিংবা আয়নায় দাঁড়িয়ে চর্চা করুন। আবার বাংলাদেশের ইতিহাসটা যেন একেবারে নখদর্পণে থাকে। কেননা আমরা বাঙালি, এই বাংলার ইতিহাস জানব না কেমন করে হয়!
প্রস্তুতি শুরু করে দিন এখনই। সাফল্য আসবেই।
অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়ে পড়ুন
সুশান্ত পালঃ ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় (কাস্টমস) প্রথম
বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেছেন, খুব চিন্তার মধ্যে আছেন কীভাবে সফল হবেন। আর যারা এরই মধ্যে দু’একবার পরীক্ষার টেবিলে বসেছেন তারা বোধহয় আরও চিন্তাগ্রস্ত। ‘কম সময়ে অনেক কিছু করতে জানাটা বড় একটা আর্ট,’ এটা আপনিও জানেন। আর একটা কথা খুব সত্য, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ভালো ছাত্র হলেই ক্যারিয়ার ভালো হবে এমনটা নয়। শেষ হাসিটা হাসার চেষ্টা করুন।
বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতির কথায় আসা যাক। খুব সত্য কথাটা হলো, সত্যিকারে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার মতো পরীক্ষার্থীর সংখ্যা খুব বেশি নেই, থাকেও না। এ পরীক্ষাগুলোতে কিছু পরীক্ষার্থী ঘুরতে এবং বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। প্রতিযোগিতায় আসার মতো প্রতিযোগীর সংখ্যা সাত থেকে দশভাগের মতো।
বিসিএস পরীক্ষার কোনো সিলেবাস নেই, তাই এ পরীক্ষায় শতভাগ প্রস্তুতি নেয়া কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। পরীক্ষায় ভালো করার জন্য কী কী পড়বেন, সেটা জানার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, কী কী বাদ দিয়ে পড়বেন, সেটা ঠিক করা। ১০তম থেকে ৩৪তম বিসিএস, পিএসসির নন-ক্যাডার প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সমাধান করে ফেলুন। এতে করে আপনার প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ধারণা জন্মাবে। কীভাবে অপ্রয়োজনীয় টপিক বাদ দিয়ে পড়া যায়, সেটা শিখতে পারবেন। এটা প্রস্তুতির প্রথম ধাপ। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী প্রথমে রেফারেন্স বই পড়েন, পরে প্রশ্ন সমাধান করেন। এতে দুটি সমস্যা আছে। এক. বেশি বেশি প্রশ্ন সলভ করার সময় পাওয়া যায় না। যত বেশি প্রশ্ন সলভ করবেন, ততই লাভ। দুই. রেফারেন্স বইগুলোর বেশিরভাগ অংশই বিসিএস পরীক্ষার জন্য কাজে লাগে না, অথচ পুরো বই পড়তে গিয়ে সময় নষ্ট হয় এবং বিসিএস নিয়ে অহেতুক ভীতি তৈরি হয়।
একটা বুদ্ধি দিই। বিসিএস পরীক্ষার জন্য যে কোনো বিষয়ের রেফারেন্স পড়ার একটা ভালো টেকনিক হচ্ছে, জ্ঞান অর্জনের জন্য না পড়ে মার্কস অর্জনের জন্য পড়া। প্রিলি আর রিটেনের প্রশ্নগুলো ভালোভাবে দেখে রেফারেন্স বই থেকে অপ্রয়োজনীয় অংশ বাদ দিয়ে পড়ুন। আর একটা বিষয় মাথায় রাখবেন, প্রিলিমিনারি সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার পরীক্ষা নয়, স্রেফ পাস করার পরীক্ষা। বিসিএস পরীক্ষায় ভালো করা মূলত নির্ভর করে ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও বাংলা_ এ চারটি বিষয়ের ওপর। এ চারটি বিষয় জোর দিয়ে পড়ুন। যে প্রশ্নগুলো কঠিন মনে হবে সেগুলো একাধিকবার পড়ুন। আবার কিছু কঠিন প্রশ্ন থাকে যেগুলো বারবার পড়লেও মনে থাকে না। সেগুলো মনে রাখার চেষ্টা বাদ দিন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি_ এ বিষয়গুলোতে প্রয়োজনীয় চিহ্নিত চিত্র ও ম্যাপ অাঁকুন? যথাস্থানে বিভিন্ন ডাটা, টেবিল, চার্ট, রেফারেন্স দিন। নিয়মিত পত্রিকা পড়ুন। সম্ভব হলে অন্তত ৫-৬টি। অনলাইনে পড়তে পারেন। খুব দ্রুত চোখ বুলিয়ে যা যা বিসিএস পরীক্ষার জন্য দরকার, সেগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করে রাখতে পারেন।
এবার আসা যাক ভাইভার কথায়। যারা ভাইভা বোর্ডে থাকেন, তারা সত্যিই অনেক বেশি অভিজ্ঞ আর পারদর্শী। তারা খুব ভালো করেই বোঝেন আপনি কী বলছেন, কী লুকাচ্ছেন। তাই কোনো কিছু লুকানোর চেষ্টা করবেন না। আপনি যেরকম, সেরকমই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন। এ সময় আই কনট্যাক্ট রাখুন। অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলা কোনো কাজের কথা নয়। তাছাড়া, স্যারদের ইনস্ট্যান্ট এঙ্প্রেশন জানতেও এটা জরুরি। সিভিল সার্ভিস, আপনার সাবজেক্ট, ক্যাডারের ফার্স্ট আর সেকেন্ড চয়েস সম্পর্কে ধারণা রাখুন।
কৃতজ্ঞতাঃ আলোকিত বাংলাদেশ

পোষ্টটি লিখেছেন: আল মামুন মুন্না

আল মামুন মুন্না, বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষা বিষয়ক বাংলা কমিউনিটি ব্লগ সাইট "লেখাপড়া বিডি"র একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিষয় নিয়ে বি.বি.এ অনার্স করছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন যশোর সরকারী এম. এম. কলেজে।

তথ্যসুত্র: লেখাপড়া বিডি.কম

৩৫তম বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষার জন্য কিছু দরকারি টিপস


৩৫তম বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষা সামনের ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫ থেকে শুরু হচ্ছে । সম্পূর্ণ নতুন সিলেবাসের আলোকে প্রথম লিখিত পরীক্ষা এটি। এক হাজার ৮০৩টি শূন্য পদের বিপরীতে ২০ হাজার ৩৯১ জন প্রার্থী প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আপনি কখনোই ভাববেন না যে বিসিএস ক্যাডার না হলে লাইফ থেমে যাবে, তবে এটাও ভুলে যাবেন না যে, বিসিএস ক্যাডারের চেয়ে সম্মানের আর কোনো পেশা এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নেই। সামনের কয়েকটি দিন কিভাবে প্রস্তুতি নেবেন।


১. যেহেতু নতুন সিলেবাস, তাই সিলেবাসের নতুন অংশগুলোকেই একটু বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়বেন।
২. সব সময় uncommon বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবেন। যে প্রশ্নগুলো uncommon আপনি সেগুলোর উত্তর করুন, এতে যিনি খাতা দেখবেন তিনি আপনাকে কিছুুটা হলেও বেশি নম্বর দেবেন।
৩. গণিত ও বিজ্ঞানের প্রতি একটু বেশি নজর দিন, মূলত এই দুই বিষয়ের নম্বরই পার্থক্য গড়ে দেয়।
৪. এই কয় দিন ২০-২২ ঘণ্টা পড়তে হবে এ টেনডেনসি পরিহার করুন।
৫. যখন যে বিষয় ভালো লাগবে তখন সে বিষয় পড়ুন।
৬. কে কী পড়ছে, সে খবর না নিয়ে নিজের কাছে যেটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় সেটাই পড়ুন।
৭. পরীক্ষার আগে সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া নিয়ে ভাববেন না তবে পরীক্ষার হলে গিয়ে চেষ্টা করবেন অবশ্যই সব প্রশ্নের উত্তর দেয়ার।
৮. সিলেবাসের আলোকে সব বিষয় সম্পর্কে ধারণা নেয়ার চেষ্টা করুন।
৯. কোনো প্রশ্নের উত্তর কোনো গাইড থেকে হুবহু লিখবেন না।
১০. প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় কোনো তারিখ, মাস বা বছর যদি Exactly মনে না থাকে তাহলে তারিখের জায়গায় মাস, মাসের জায়গায় বছর এবং বছরের জায়গায় দশক লিখে দেবেন, তবে তা যেন ভুল না হয়। উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশ জাতিসঙ্ঘের সদস্যপদ লাভ করে- ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪। আপনার যদি তারিখ মনে না থাকে তবে লিখুন- ‘সেপ্টেম্বর ১৯৭৪’ যদি তা-ও মনে না থাকে তবে লিখুন- ‘১৯৭৪ সাল বা সালে’। কিন্তু Specific করতে গিয়ে যেন ভুল না হয়।
১১. দৈনিক পত্রিকার আন্তর্জাতিক ও সম্পাদকীয় অংশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ মুহূর্তে এ বিষয়ক কাটিংগুলোতে চোখ বুলিয়ে নেবেন।
১২. কবি-সাহিত্যিকদের জন্ম-মৃত্যু উপলক্ষে প্রকাশিত ক্রোড়পত্রগুলো পড়ার চেষ্টা করবেন।
১৩. সাধারণ জ্ঞান অংশে উত্তরের ক্ষেত্রে সন-তারিখ ও বিভিন্ন তথ্য সূত্রসহ তুলে ধরুন। সেটা অন্যের থেকে আপনার উত্তরকে আকর্ষণীয় করবে।
১৪. কখনোই এটা ভাববেন না যে, যিনি খাতা দেখবেন তিনি হয়তো তথ্যটি সঠিক না ভুল তা ধরতে পারবেন না। কারণ ৪০-৫০টি খাতা দেখলে পরীক্ষকের আপনার খাতার ভুল স্পষ্ট হয়ে যাবে।
১৫. ইংরেজির ক্ষেত্রে বানান ভুল যাতে না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন। আর গ্র্রামারটাও যাতে ঠিক থাকে, লেখা সহজ ভাষায় হলেও কোনো সমস্যা হবে না।
১৬. অযথা প্রশ্নের উত্তরে পৃষ্ঠা বাড়ানোর চিন্তা করবেন না এবং লেখা যতটা সম্ভব তথ্যবহুল করার চেষ্টা করবেন। মনে রাখবেন আপনি একজন প্রথম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা হতে যাচ্ছেন, সুতরাং আপনার লেখা উত্তরের মান কিন্তু সব দিক বিবেচনা করেই করা হবে।
১৭. বাংলার একটা বিষয় নিয়ে সবাই খুব চিন্তিত থাকে, সেটা হলো গ্রন্থ সমালোচনা। এটা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই। এটা একান্তই আপনার নিজের ব্যাপার যে কিভাবে এটা সমালোচনা করবেন। বাজারে কিছু বই বের হয়েছে। এগুলো থেকে গ্রন্থ আলোচনা দেখে রাখবেন।
১৮. সাম্প্রতিক বিষয়াবলি বেশি গুরুত্ব দেয়ার দরকার নেই তবে বাংলাদেশ, ভারত, মধ্যপ্রাচ্য, আফগানিস্তান ও ইউরোজোন সঙ্কট বিষয়গুলো ভালোভাবে দেখে নিন।
১৯. বড় প্রশ্নের উত্তরগুলো পয়েন্ট আকারে লিখবেন। প্রশ্নের মানবন্টন অনুযায়ী উত্তর লেখার পরিধি ছোট বা বড় করুন।
২০. নিজের স্মার্টফোনটাকে কেবল সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের জন্য ব্যবহার না করে এটা পড়াশোনার কাজে লাগান। যেকোনো বিষয় বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিষয়ের কোনো টপিক বইতে না পেলে গুগলে সার্চ দিয়ে তা দেখে নিতে পারেন। এতে আপনার সময় বাঁচবে সাথে সাথে এটা উত্তরে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।
২১. জীবনে সফল হওয়ার শর্টকাট কোনো উপায় নেই। আর পড়ার ক্ষেত্রেও কোনো শর্টকার্ট বই পড়বেন না।
২২. সংবিধানের সব বিষয়ই আয়ত্তে থাকা ভালো তবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি, মৌলিক অধিকার ও সংশোধনী ইত্যাদি বিষয় ভালোভাবে আয়ত্ত করবেন।
২৩. বাংলা ও ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র এবং বাংলাদেশ বিষয়াবলি প্রথমপত্র ছাড়া সব বিষয়েই ৭০-এর অধিক নম্বর পাওয়া সম্ভব। তবে গণিত ও মানসিক দক্ষতা এবং বিজ্ঞানে ৯০ পর্যন্ত নম্বর পাওয়া যায়।
২৪. ২৯তম বিসিএসের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ৮৮ নম্বর পেয়েছিলেন এবং ৩৩তম বিসিএসে ঢাকা কলেজের ছাত্র আবদুল্লাহ আল মামুন গণিত ও মানসিক দক্ষতায় ৯৩ নম্বর পেয়েছিলেন। সুতরাং এই বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিলে আপনার পক্ষেও অধিক নম্বর পাওয়া সম্ভব।
২৫. অনেকেই অতিরিক্ত টেনশনের কারণে পরীক্ষার আগে অসুস্থ হয়ে যায়, যা তার পরীক্ষার ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। সুতরাং সবার উচিত অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে স্বাভাবিক গতিতে পড়াশোনা করা।
২৬. অনেক পরীক্ষার্থী আছেন যারা প্রথমে দু-একটি পরীক্ষা খারাপ হলে পরবর্তী পরীক্ষা দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তাদের জন্য বলছি, আপনি যদি ৩০-এর নিচে নম্বর পান তাহলে নম্বর যোগ হবে না, কিন্তু আপনি তো ফেল করছেন না। গড়ে ৪৫০ নম্বর পেলেই আপনি ভাইভাতে ডাক পাবেন। সুতরাং শেষ মুহূর্তে এসে যে বিষয়ে আপনি দুর্বল সেটা নিয়ে চিন্তা না করে যে বিষয়ে ভালো সেটাতে সর্বোচ্চ নম্বর তোলার চেষ্টা করুন।
২৭. ৩৩তম বিসিএসে একাধিক পরীক্ষার্থী কোনো এক বিষয়ে নম্বর যোগ না হওয়ার পরেও ক্যাডার পেয়েছিলেন। সুতরাং আবার বলছি, যে বিষয়ে আপনার দক্ষতা বেশি এখন সেটাতে আরো ভালো করার চেষ্টা করুন।
২৮. পরীক্ষার এক দিন আগেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখুন। যেমন- প্রবেশপত্র, কলম, পেন্সিল, কালার পেন, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি।
শেষ কথা : কোনো অজুহাত খোঁজার চেষ্টা করবেন না। মনে রাখবেন ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন আপনার এবং এটাকে বাস্তবায়ন করতে হবে শুধু আপনাকে। চেষ্টা চালিয়ে যান, সফলতা অবশ্যই আসবে।

মূল লেখক : পরিচালক ও শিক্ষক, ওরাকল বিসিএস

তথ্যসুত্র : লেখাপড়া বিডি.কম
শাহানেওয়াজ ইফতেখার এর পোষ্ট


যেভাবে পড়লে একমাসেই বিসিএসে চান্স সম্ভব


এই লিখাটি মূলত বিসিএস প্রিলিমিনারি নিয়ে প্রিপারেশন খুব ভাল নয় কিংবা চাকরি বা অন্য পড়াশোনার পাশাপাশি বিসিএস দেবেন বলে ঠিক করেছেন তাদের জন্য …
arafat
হাতে যদি ৩০-৪৫ দিন সময় থাকে তবে আত্মবিশ্বাসী হোন, প্রিলিতে উতরে যাওয়ার জন্য এটা পর্যাপ্ত সময়। আমি ৩৩, ৩৪, ৩৫ তম প্রিলি তিনটিতেই অংশ নিয়েছিলাম এবং উত্তীর্ণ হই সবগুলোতেই আল্লাহর রহমতে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে লিখছি :
এই সময় টাতে আপনি যে রিডিং ম্যাটেরিয়ালস গুলো কালেক্ট করবেনঃ
১) বিগত বছরের প্রশ্ন সম্ভার ( নীলক্ষেতে গেলেই পাবেন, সেগুলো সল্ভ সহ পাবেন, ৩০-৫০ টাকা নিবে দাম)
২) এসিউরেন্স/ ওরাকল/MP3 এদের যেকোন টার শর্ট একটা ডাইজেস্ট ৮০-১২০ টাকা নেবে, ১৫০-২০০ পৃষ্ঠার ছোট একটা বই, এখানে মূলত সাম্প্রতিক বছর গুলোতে পিএসসি র পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়নের উপর ভিত্তি করে সবগুলো বিষয় নিয়েই প্রশ্নোত্তর থাকে … বড় ডাইজেস্ট গুলো র মতন কিংবা সাবজেক্ট ওয়াইজ আলাদা বই গুলোর মতন অত ডিটেইল না। যারা অলরেডি সাবজেক্ট ওয়াইজ আলাদা বই কিনে পড়েছেন তাদের এটা না কিনলেও চলবে …
৩) প্রফেসর্স প্রকাশনী প্রিলির আগ দিয়ে একটা বই বের করে, স্পেশালি বিসিএস ক্যান্ডিডেট দের জন্য, এইটা খুব খুব খুব উপকারি …আমি ৩৫ তম প্রিলিতে কেবল মাত্র এটা পড়ে প্রিলি র প্রিপারেশন নিয়েছিলাম। কারণ একই সময়ে ৩৪ তম র ভাইভা চলছিল, ভাইভার প্রিপারেশন নিতে গিয়ে আলাদা করে ৩৫ এর প্রিলির জন্য পড়তে পারি নি । তবে কেউ এটা পড়েই প্রিলিতে টিকে যাবেন সেই আশা করবেন না । আমার ক্ষেত্রে ভাগ্য এবং আগের দুই প্রিলির হালকা পাতলা প্রিপারেশন এর কারণে আমি কেবল এটার ভরসা করে গিয়েও উতরে যেতে পেরেছিলাম ।
দাম নেবে ৫০ টাকা, তবে এটার চাহিদা প্রচুর থাকে বিধায়, ক্রাইসিস ক্রিয়েট হলে অনেক বেশি দামেও কেনা লাগতে পারে…
৪) যে মাসে পরীক্ষা হবে সে মাসসহ তার আগের ৩-৪ মাসের কারেন্ট এফেয়ার্স/ কারেন্ট ওয়ার্ল্ড …
৫) আমি ৩৫তম দিতে গিয়ে সবচেয়ে খারাপ করেছি ইংরেজি লিটারেচারে। এর থেকে আমার মনে হয়েছে এর জন্য আলাদা করে একটু প্রিপারেশন নেয়াটা উচিত। নীলক্ষেতে বিসিএস/ ব্যাংক কিংবা আরও এই জাতীয় পরীক্ষাগুলোর জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়/ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যারদের ইংরেজি সাহিত্যের উপর সামারি টাইপ ছোট ছোট বুকলেট টাইপ বই পাওয়া যায়, ৩০-৫০ টাকা নেবে। এগুলোতে ইংরেজি সাহিত্যের বিভিন্ন কাল, কে কোন কালের সাহিত্যিক, কার লিখা কী ধর্মী, বিখ্যাত বই কে কি লিখে গেছেন এসব পাওয়া যাবে… আর ইংরেজি শব্দার্থ, বিপরীতার্থ এসব নিয়ে যাদের দুর্বলতা তারা সাইফুর্স/মেন্টর্স কিংবা বিসিএস+ব্যাংক প্রিপারেশনের জন্যেই কমন কিছু শব্দের বই পাওয়া যায়, সংগ্রহে রাখতে পারেন। ঘাবড়াবেন না বিসিএসে আপনাকে GRE স্ট্যান্ডার্ড Vocabulary দিতে যাবে না ।
কীভাবে পড়া উচিত?
আমি শুরুতেই বলেছি লিখাটা হচ্ছে যাদের হাতে সময় কম, প্রিপারেশন এতোদিন খুব ভাল নিতে পারেন নি তাদের জন্য ।
আমি শুরুতেই পরামর্শ দিব, আগে বিগত বছরের প্রশ্ন গুলো দেখুন, সেগুলো না পারলে/ না জানা থাকলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই । আমি সাজেস্ট করব, প্রথমে যে বই টির কথা বলেছি, সেটার বাংলা, ইংরেজি, বাংলাদেশ, গণিত, দুই ভাষার সাহিত্য এগুলো অবশ্যই পড়ে শিখে ফেলুন। যেগুলো কঠিন মনে হচ্ছে সেগুলো আপাতত অন্য কোন কালির কলম বা মার্কার দিয়ে মার্ক করে রাখুন। আন্তর্জাতিক কিংবা বাংলাদেশের জেলা/ থানা র সংখ্যা টাইপ খুব পুরাতন প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে পারেন, মানে যেগুলো আপনি জানেন ২৮ তম বিসিএস এর সময় যেই সংখ্যা ছিল, এখন পরিবর্তন হয়েছে সেগুলো আর কি।
আপনি যদি মিনিমাম ১০-১২ টি বিগত বিসিএস প্রিলির প্রশ্ন সল্ভ করে ফেলেন, তাহলে দেখবেন আপনার মধ্যে প্রিলির বিষয়ে খুব ভাল ধারণা চলে এসছে যে কী ধরণের প্রশ্ন হতে পারে। এখন আপনার একটু ডিটেইল পড়ার সময় । যদি না আপনি বাংলা সাহিত্য/ ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছাত্রী হয়ে থাকেন, তবে আপনার জন্য বাংলা-ইংরেজি সাহিত্য জিনিসটা একটু কঠিন হবেই । অনেকের কাছে এগুলোর চেয়ে আন্তর্জাতিক বা বাংলাদেশ বিষয়াবলি কঠিন লাগে । আপনি যেহেতু বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখেছেনই, আপনি নিজেকে বিচার করুন, কোনটিতে আপনার দুর্বলতা বেশি, সেটির উপরে জোর দিন।
আমার একটা কমন অবজারভেশনঃ যারা ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা তারা সাধারণত সাহিত্যিক/কাল/বইপত্র এসবের নামে দুর্বল হয় । মেডিকেলে ৫ বছর পরে মানুষজন গণিত এর সাধারণ নিয়ম গুলো ভুলে যান, সাথে বাংলা ব্যকরণ তো আছেই ।আর্টস কিংবা কমার্স ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে যারা প্রথম বারের জন্য এটেম্পট নিচ্ছেন অনেকের গণিত আর ইংরেজিভীতি থাকে। তবে সবার কমন এক জায়গাতে প্রবলেম হয় কম বেশি তা হল বাংলাদেশ বিষয়াবলি আর আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি/ সাম্প্রতিক ঘটনাবলি । এর জন্য খুব ভালভাবে কারেন্ট এফেয়ার্সের সবগুলো সংখ্যা (যা উল্লেখ করলাম) আর কারেন্ট এফেয়ার্সের বিশেষ সংখ্যাটা পড়ুন ।
কারেন্ট এফেয়ার্সের বিগত মাসের সংখ্যাগুলো কেন সংগ্রহ করতে বলেছি তার কারণ হল সেখানে পিএসসি/ ব্যাংক সমূহ কিংবা অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের যে পরীক্ষাগুলো হয় সেগুলোর প্রশ্নও দেয়া থাকে । অনেক বছর এমন দেখা যায় যে সেসব প্রশ্ন থেকেও কিছু প্রশ্ন চলে আসে।
পরীক্ষার মাস খানেক সময় কাল থেকে খবরের কাগজটা পড়ুন, এখন তো এণ্ড্রয়েড এপসের মাধ্যমে বাসায় পত্রিকা না রেখেও পড়া যায়, বিশেষ দরকারি তথ্যগুলো মোবাইলেই পারলে নোট করে রাখুন । সেটাও কষ্ট লাগলে স্ক্রিন শট দিয়ে রাখুন ( যারা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করছেন)।
স্মার্টফোন ব্যবহার না করলেও সমস্যা নেই, দেখা যায় যারা পত্রিকার পাতা ঘেটে পড়েন কিংবা কোন জরুরি তথ্য দাগিয়ে রাখেন, কেটে সংগ্রহ করেন কিংবা ডায়েরি/খাতায় লিখে রাখেন তাদের সে জিনিস আরও বেশি মনে থাকে।
একটানা কোন বিষয় পড়তে যাবেন না, বোরিং ফিল করবেন। যেমন আপনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস কম পারেন, এইটা নিয়ে এখন দিনের পর দিন পরে থাকলে দেখবেন পড়া এগুচ্ছে না। তো কি করা যাবে? এটার ফাঁকে ফাঁকে সহজ লাগে কিংবা মজা লাগে এমন কিছু একটা পড়বেন। মনে থাকে না কিংবা বার বার পড়েও ভুলে যাচ্ছেন এমন হলে সেটা একটা কাগজে লিখে রাখুন। বাসায় পত্রিকা পড়লে যেখান থেকে কোন একটা গুরুত্বপূর্ণ ইনফো পেলেন সেটা আরেকটা জায়গায় লিখুন, দরকারে দেখে দেখেই লিখুন, সমস্যা নেই।
গণিত ভীতি যাদের তাদের জন্য রেগুলার এক আধটু প্র্যাক্টিস করাটা জরুরি, অংক হাতে না করে শুধু দেখে গেলে অনেকেই ভুল করেন কিংবা পরীক্ষার হলে কনফিউজড থাকেন ।
ইঞ্জিনিয়ারিং/ম্যাথ/ফিজিক্স/স্ট্যাটিস্টিক্স ব্যাকগ্রাউন্ড এর যারা কিংবা যারা MBA করছেন তাদের জন্য এই সাব্জেক্ট খুব চ্যালেঞ্জিং না। ২ নম্বরে যে বইটার কথা বললাম ওখানের ম্যাথ সেকশনে এবং প্রফেসর্সের স্পেশাল বইতার ম্যাথ সেকশনেও দেখবেন পাটি গণিত আর জ্যামিতি/ত্রিকোণমিতি নিয়ে শর্টকাটে সূত্র কিংবা টেকনিক দেয়া আছে। সেগুলো এপ্লাই করে কিছু অংক করুন। কেবল সূত্র মুখস্ত রেখে হলে গেলে তালগোল পাকিয়ে ফেলার সম্ভাবনাই বেশি থাকবে ।
মানসিক দক্ষতা নিয়ে বাজারে বেশ কিছু বই এখন পাওয়া যায় তবে আমার কাছে এজন্য আহামরি কিছুই দরকার বলে মনে হয় নি, আগের বছরের প্রশ্ন গুলো সমাধান করলে আর এ বইগুলোর কথা বললাম ওগুলোর সংশ্লিষ্ট সেকশনে প্র্যাক্টিস করলে আপনি পারবেন সাধারণ বিজ্ঞানে অনেকে মনে করেন অনেক সোজা, পরে পচা শামুকের পা কাটে অনেকের… এজন্য শর্ট ডাইজেস্ট টা আর প্রফেসর্সের বই টা পড়ুন ভাল মত । আর কারেন্ট এফেয়ার্স ও … বিভিন্ন প্রযুক্তির শর্ত কাট নাম জানেন কিন্তু ফুল মিনিং জানেন না, সেগুলোও জেনে নিন, বানান সহ কিন্তু ।
সবশেষে আবারও বলব, ৩০-৪০ দিন প্রস্তুতির জন্য অনেক সময়। শুধুমাত্র আপনি মুখস্ত করে প্রিলি পাস করে আসবেন এটা সবার জন্য হয় না। বুদ্ধি খাটান, মনে রাখবেন বিসিএস প্রিলি তে আপনি ভুল দাগালে কিন্তু অর্ধেক মার্ক্স কাঁটা, সুতরাং ক্যালকুলেটেড রিস্ক নিতে হবে। আর আরেকটা কথা সবাইই জানেন, এই মার্ক্স আপনার মূল মার্ক্সের সাথে যোগ হবে না, সুতরাং এখানে উতরে যাবার জন্য আপনাকে দুনিয়ার সব কিছুই পারতে/ জানতে হবে না। অনেক এমসিকিউ প্রশ্ন আপনি না জেনেও প্রসেস অফ ইলিমিনেশন (কোন টি উত্তর হবে না সেটা বাছাই করে করেও) কিছু মার্কস পেতে পারেন ।
সবার জন্য শুভ কামনা রইল।
লেখক, এম. আরফাতুল ইসলাম
৩৪তম বিসিএস (শিক্ষা)
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সৌজন্যেঃ ক্যাম্পাসলাইভ২৪

বিসিএস ভাইভার খুঁটিনাটি


Any viva is a game. এই গেইমে নিজেকে পণ্ডিত প্রমাণ করা নয় – কনভিন্স করে জিততে হয়। কনভিন্স করার জন্য দুটো জিনিস প্রয়োজন হয় – Confidence & modesty. ভাইভাতে অনেক প্রশ্নই কমনসেন্স থেকে করে। আর সেগুলোর জন্য আত্মবিশ্বাস আপনাকে এগিয়ে রাখবে। তাই কনফিডেন্ট হোন। কত যদু, মধু ভাইভাতে কত ভালো করছে, তাহলে আমি কেন নয়। এই ভাবটা অন্তর দিয়ে অনুভব করুন। কনফিডেন্স আসবে। এরপর বিনয়। কোন বসই পণ্ডিত চায় না, একজন competent & loyal লোক চায়। আপনি নিজেও যদি ভাইভা নেন, তখন নিজেকে মনে হবে জ্ঞানবৃক্ষ আর পরীক্ষাত্রীদের মনে হবে অবোধশিশু, চারাগাছ। তাই পরীক্ষক কখনোই এক্সপেক্ট করেন না যে, পরীক্ষার্থী তাকে হাইকোর্ট দেখাবে। তাই অবশ্যই যে কোন অবস্থাতে বিনয়ী থাকতে হবে। তাই Confidence ও modesty মিলিয়েই আপনাকে জিততে হবে। It’s a market, you have to sell yourself only.
.

কিভাবে শুরু করবেন? বিসিএস ভাইভা হয় মূলত ক্যাডার চয়েসের উপর। একটা নতুন বা পুরাতন যে কোন ভাইভা গাইড জোগাড় করুন। প্রশ্নের ধরন দেখুন। গাইড ও ইন্টারনেট থেকে ফার্স্ট আর সেকেন্ড চয়েজের সাধারণ বিষয়গুলি দেখে ফেলুন। তবে এর জন্য ঘুম হারাম করার কোন দরকার নাই। বিসিএস ভাইভার জন্য এগুলো ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ না। তবে এগুলো না জানলে কনফিডেন্স আসবে না। গাইডের উত্তর ৯০% ক্ষেত্রে আপনার পছন্দ হবে না, তখন ইন্টারনেট দেখুন। কিছু জিনিস লিখে ফেলুন। এতে উত্তরগুলো গাইডের মত না, নিজের মত হবে।
.
Most Vital Part: কয়েকটা কমন প্রশ্ন প্রায় সবাইকে করে। এগুলো নিজে তৈরি করে লিখে ফেলুন। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর গতানুগতিক না দিয়ে একটু আলাদা করে বলতে চেষ্টা করুন। নিজের উত্তরের সাথে ইউনিক (আলাদা কিছু যা একান্তই আপনার) কিছু যোগ করতে পারলে – সেটা কাজে দেবে। এরকম কিছু কমন প্রশ্ন হলো – (i) কেন বিসিএস দিচ্ছেন? (ii) ফার্স্ট চয়েস এটা কেন? (iii) আপনার একাডেমিক সাবজেক্টের সাথে ফার্স্ট চয়েস কিভাবে রিলেটেড? (iv) নিজ জেলা সম্পর্কে – জেলার বিখ্যাত ব্যক্তি, নদী, জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, নামকরণ, জেলার বিখ্যাত কয়েকজন সিভিল সার্ভিস অফিসারের নাম। (v) নিজের নাম বা জন্মদিনঃ নিজের নামে কোন বিখ্যাত ব্যক্তি থাকলে তাঁর কথা জেনে নিন। নিজের জন্মদিন কোন বিশেষ দিন হলে সেই দিনের ইতিহাস জেনে নিন।
এসব প্রশ্নের উত্তর মুখস্ত টাইপ না, গল্প টাইপ করে বলতে পারলে ভাল হয়। গাইডের উত্তর না, একেবারে নিজের জীবনের কিছু বলতে পারলে সেটা বিশ্বাসযোগ্য হয়। যেমন, কেন বিসিএস দিচ্ছেন – এ প্রশ্নে আমার উত্তর ছিলো মোটামুটি এরকমঃ ‘স্যার আমি কিছুদিন সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করেছি। বিদেশী কোম্পানির আউটসোর্সিং কাজ। কিন্তু দিন শেষে বাসায় ফিরে মনে হতো – আমি কার জন্য কী করছি! এখানে বেতন ছাড়া আমার কোন প্রাপ্তি নেই। ছোটবেলা থেকে যেভাবে নিজেকে দেখতে চেয়েছি, প্রাইভেট জবে সেভাবে নিজেকে পাচ্ছি না, মানসিক শান্তি পাচ্ছি না। আমি দেশের জন্য আরো বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ চাই। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হতে পারলেই আমি সেই সুযোগটা পেতে পারি। এজন্যেই বিসিএস দিচ্ছি, স্যার।’
.
সাম্প্রতিক বিষয়ঃ একেবারে সাম্প্রতিক বিষয়গুলোই প্রশ্নকর্তার মাথায় বেশি থাকে। এজন্য পত্রিকার সম্পাদকীয় পাতার কয়েকটা কলাম প্রতিদিন পড়ুন। অনেকে টকশো দেখার কথা বলেন। কিন্তু এখন এত বেশি টকশো হয় যে, এতে প্রিপারেশানের সময় নষ্ট আর ইনফরেশান বিচ্যুতির সম্ভাবনা থাকে।
.
Common Sense of Viva: ভাইভার কিছু কমন বিষয় যেগুলো আপনি জানেন। আমি আবার মনে করিয়ে দিচ্ছিঃ (i) অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করুন। সালাম দিয়ে, অনুমতি নিয়ে বসুন। (ii) স্মাইলিং ফেইস রাখা জরুরী। (iii) আই-কন্টাকঃ ভাইভা বোর্ডের সবার সাথে আই-কন্টাক বজায় রাখুন। ভাইভা বোর্ডে ৩/৪ জন থাকেন। একটি প্রশ্ন যিনি করবেন, উত্তরের সময় তাঁকে মূল ফোকাস দিয়ে সবার দিকে অন্তত একবার তাকান। বিসিএস ভাইভাসহ অনেক ভাইভাতেই একজন মনোবিজ্ঞানী থাকেন। উনি কিচ্ছু বলেন না। চুপচাপ বসে থাকেন। ওনাকে অবহেলা করবেন না। অবশ্যই ওনাকেও আই কন্টাকে রাখুন। (iv) পোশাকঃ মার্জিত কিন্তু নিজের জন্য কমফোর্টেবল পোশাক পড়ুন। সেটি স্যুট হতে পারে, শার্ট-প্যান্টের সাথে টাই, শাড়ি, সেলোয়ার-কামিজ যে কিছু হতে পারে। যেটা পড়লে আপনি নিজেকে একজন অফিসারসুলভ মনে করবেন, সেটাই পড়ুন। ৩৪-তম বিসিএসের ভাইভার আগে আমাকে এক পরীক্ষার্থী জিজ্ঞেস করল, ভাইয়া কোন টেইলার্স থেকে স্যুট বানাবো। সে ধরেই নিয়েছে, স্যুট তাঁকে পড়তেই হবে। আর টেইলার্সের খবর দিতে আমিই যোগ্য ব্যক্তি। কদিন পড়ে সে আবার খবর দিল, সে বারো হাজার টাকা দিয়ে এক বিখ্যাত টেইলার্স থেকে স্যুট বানিয়ে ফেলেছে। বেশ মজা লাগলো। কিন্তু ওর এপ্রোচটাকে অবশ্যই পজিটিভলি নিলাম। সে যেটা ঠিক মনে করেছে, সেটা করে ফেলেছে। পোশাকের জন্য এটাই সঠিক এপ্রোচ। (v) কোনমতেই argue করা বা তর্ক করা যাবে না। Interviewer যদি ভুলও বলে, তবে ভুলটা মেনে নিয়ে বিনয়ের সাথে নিজের টুকু যোগ করা যায়, তাঁর বেশি নয়।’
.
ভাইভার দিন সকালে কি করবেন? সকালেই ঐ দিনের ২/৩ টা খবরের কাগজে চোখ বুলিয়ে নিন। ঐ দিনের বাংলা তারিখ জেনে নিন। ঐ দিন কোন জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোন দিবস বা বিশেষ ঘটনা ঘটে থাকলে সেটার বিস্তারিত জানতে হবে। ওই সময় কোন বিখ্যাত ব্যক্তি বাংলাদেশে ভ্রমণ করলে বা বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি বা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোথাও সফরে গেলে সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
.
প্রশ্ন কি ইংরেজীতে করবে? ভাইভাতে ২/১ টা প্রশ্ন ইংরেজিতে করে। আর যাদের ফরেন ফার্স্ট চয়েস, তাঁদের বেশিরভাগ প্রশ্নই ইংরেজীতে করতে পারে। বিদেশি ভাষায় সবারই সমস্যা থাকে। তাই এই সমস্যা নিয়া ভাবার দরকার নাই, ভাবুন এটা সবারই জন্য কম-বেশী একই। ইংরেজী বলার ভীতিটা যাদের বেশি, তাঁরা দুটি কাজ করতে পারেনঃ (i) কমন প্রশ্নগুলার ইংরেজী উত্তর নিজে নিজে বলে সেটি মোবাইলে রেকর্ড করুন। এরপর শুনুন। নিজেই বুঝবেন কিভাবে বললে আরও ভালো হতো। পরের বার রেকর্ডে অবশ্যই উন্নতি হবে। এ্যাঁ, আঁ, উঁ …এসব বাদ দিয়ে ইংরেজী বাক্য স্মার্টলি শেষ করার জন্য এর চেয়ে ভালো টেকনিক আর নেই। (ii) কমন প্রশ্নগুলার ইংরেজী উত্তর প্রেমিক/প্রেমিকা/বন্ধুর কাছে বলতে পারেন। আফসোস, আমার প্রেমিকা সেই সময় কাছে আসলে, তাঁর সাথে কালিদাসও আসত – ‘মেঘদূত’ হাতে নিয়ে। তাই পরীক্ষার আলাপ পাত্তাই পেত না। আপনার তো সেই সমস্যা নেই।
.
শেষ কথাঃ ফর গড সেক, আমি যেভাবে আমার কথাগুলো বললাম, সেভাবে আমারে কেউ বলে নাই। সেই সময় ফেইসবুকে পরামর্শ নেবার মত স্মার্ট আমি ছিলাম না। আমি বিসিএসের জন্য কোন কোচিং করি নাই। ২/৩ টা কোচিং আমার নাম তাঁদের লিফলেটে ব্যবহার করেছে, কিন্তু তা ডাহা মিথ্যা। এই মিথ্যার জন্য অনেকে মাপ চেয়েছে, কিন্তু লিফলেটে নাম দেয়া বন্ধ করে নাই। যাই হোক, এসবের মানে – ভাইভা প্রিপারেশানে আপনার অবস্থা আমার থেকে ভাল। তো আপনি আজই কনিফিডেন্ট হয়ে যান। আজই আর হরিপদ কেরানী নয়, আকবর বাদশা হয়ে যান। তবে একজন বিনয়ী বাদশা। কনফিডেন্স আর বিনয় দিয়ে জয় করুন ভাইভা বোর্ডকে।
শুভকামনা!

তথ্য সুত্র: লেখাপড়া বিডি.কম

চাকরী বা বিসিএসের ভাইভাতে যেই প্রশ্ন করা হয়


সাধারণত চাকরী বা বিসিএসের ভাইভাতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কিছু একই প্রশ্ন করা হয়। যা অনেকের অজানা। তবে কিছু সহজ প্রশ্নও করা হয় । কিন্তু পূর্বে ধারণা না থাকলে সহজ প্রশ্নগুলোও তখন উত্তর দিতে নার্ভাস লাগে বা উত্তর দেয়া যায় না। আজ সবাইকে এমন কিছু প্রশ্নের কথা বলবো যা ভাইভাতে জিজ্ঞাসা করা হয়।

১. আপনার নাম কি?
→What’s your name?
.
২.আপনার নামের অর্থ কী?
→What’s the meaning of your name?
.
৩. এই নামের একজন বিখ্যাত ব্যক্তির নাম বলুন?
→Tell me a famous person’s name of the name?
or.
Tell me a famous person similar of the name?
.
৪. আপনার জেলার নাম কী?
→What is your district name?
.
৫.আপনার জেলাটি বিখ্যাত কেন?
→Why is your district famous?
.
৬. আপনার জেলার একজন বিখ্যাত মুক্তিযোদ্ধার নাম বলুন?
→ Name a famous freedom fighter in your district?
.
৭. আপনার জেলার একজন বিখ্যাত ব্যক্তির নাম বলুন?
→Name a famous person in your district?
.
৮. আপনার বয়স কত?
→How is your age?
or.How old are you?
.
৯. আজ কত তারিখ?
→What is date today?
.
১০. আজ বাংলা কত
তারিখ?
→What is date today in Bengali?
.
১১. আজ হিজরি
তারিখ কত?
→What is date today in Hijri?
.
১২. আপনি কি কোনো দৈনিক পত্রিকা পড়েন?
→Do you read any
daily newspapers?
.
১৩.পত্রিকাটির
সম্পাদকের নাম কি?
→What is the name of the editor?
.
১৪. আপনার নিজের সম্পর্কে ইংরেজিতে বলুন?
→Tell about yourself
in English?

তথ্য সুত্র: লেখাপড়া বিডি.কম